১৭

সাভারে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী; সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার।

সাভার (ঢাকা): জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার একটি নতুন শপথ নেওয়া।

আজ রবিবার (১৮ই অক্টোবর ২০২৬) সকালে সাভারে সেনাবাহিনীর একাধিক ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে (পিজিআর) ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

সেনা পরিবারের সন্তান হিসেবে নিজের বেড়ে ওঠার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও সেনানিবাসের এমন পরিবেশ আমার জন্য নতুন কিছু নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারত্বের প্রতীক।

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অসামান্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ বলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬শে মার্চ ও ২৭শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের নির্দেশনা দেন, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে চিরভাস্বর করে রেখেছে।

আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার স্পেস এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল বর্তমানে বিশ্ব নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ। সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

একইসঙ্গে সেনাসদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।