৩৬

উত্তরপ্রদেশের বিজনরে অতিরিক্ত শব্দে আজানের অভিযোগে বিট কনস্টেবলও বরখাস্ত; জেলার সব উপাসনালয়ে মাইকের শব্দসীমা মেনে চলার বিষয়ে হলফনামা জারির নির্দেশ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে অনুমতি ছাড়া এবং নির্ধারিত শব্দসীমা লঙ্ঘন করে লাউডস্পিকারে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামের এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মসজিদের মাইক জব্দ করে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

গত শনিবার (১০ই অক্টোবর ২০২৬) ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজনর জেলার নাজিবাবাদ এলাকার মহল্লা মাকবারায় ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে আজ এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিজনরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) উমেশ প্রতাপ সিং এবং পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই গত শনিবার ‘সমাধান দিবস’ নামক জনঅভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহল্লা মাকবারা এলাকা অতিক্রমের সময় তাঁরা স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চশব্দে আজানের ধ্বনি শুনতে পান।

এরপরই পুলিশ সুপার কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদেশের পরিপ্রক্ষিতে কোতোয়ালি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মসজিদে গিয়ে আজানে ব্যবহৃত মাইক জব্দ করে এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করে।

পরবর্তী সময়ে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন এবং জনপরিসরে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে পুলিশি এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) নথিভুক্ত করা হয়। আদালত থেকে তাঁকে পরবর্তীতে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা এক বিট কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজনর জেলার সবকটি থানার অধীনস্থ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে মাইকের ব্যবহার নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে রাখা হচ্ছে—এ মর্মে লিখিত হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।