৪৪

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় টিপসই জালিয়াতি করে ভুয়া কাবিননামা তৈরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ; সালিশ ও তদন্তের তাগিদ।

ময়মনসিংহ (বিশেষ প্রতিনিধি): ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করে এক বিধবা নারীর অজ্ঞাতে ভুয়া কাবিননামা তৈরির এক নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম (৪৩) জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামী আবু কালাম মারা যাওয়ার পর অন্যের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন তিনি। নাতি-নাতনি থাকা সত্ত্বেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে তাঁর কখনোই ছিল না।

আছিয়া বেগমের অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে ফ্যামিলি কার্ড বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেন স্থানীয় প্রসাধনী ব্যবসায়ী ও জামায়াতের সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার। কিন্তু এর কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, আবদুল কুদ্দুছ নামের এক ব্যক্তির সাথে তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে বলে এলাকায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তাঁর সামনে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর সংবলিত একটি জাল কাবিননামাও তুলে ধরা হয়।

ভুক্তভোগী নারী জোর দিয়ে বলেন, “আমি কখনোই কোনো কাজি বা বিয়ের মজলিসে যাইনি। কার্ডের নাম করে প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছে।”

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি গোলাম মোস্তফার নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই বিয়ে তিনি পড়াননি এবং কাবিননামাটি সম্পূর্ণ ভুয়া। কাবিননামায় উল্লিখিত সাক্ষীরাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে মূল অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে ফাসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক (শামীম) জানান, অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার দলের কোনো পদধারী নেতা নন, তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় প্রবীণদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে; তবে তা সুরাহা না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।