২৭

এলএনজি আমদানিনির্ভরতা কমাতে জোরদার অনুসন্ধান; ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা সরকারের।

ঢাকা: জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও মহার্ঘ এলএনজি আমদানিনির্ভরতা হ্রাসে জোর কদমে এগোচ্ছে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭ মাসে দ্রুত গতিতে দেশের ৩২টি কূপ খনন ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে পেট্রোবাংলা। এসব নতুন ও সংস্কারকৃত কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস সূত্রে জানা গেছে, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়াতে মোট ১৫০টি নতুন কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সফলভাবে খনন ও ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি, বাপেক্সের (BAPEX) ১১টি এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ৭টি কূপ রয়েছে। বিজিএফসিএলের হবিগঞ্জ-৫ কূপে আশাতীত গ্যাস পাওয়ায় সার্বিক দৈনিক সরবরাহ ধারণার চেয়ে বেড়ে প্রায় ১৪৭.৯ এমএমসিএফে পৌঁছেছে।

তবে কূপ খনন করে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হলেও পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্ট সংক্রান্ত অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে বর্তমানে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত আরও ৭টি কূপের (যেমন: রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১ ইত্যাদি) খননকাজ পুরোদমে চলছে, যা আগামী জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। এগুলো থেকে দৈনিক আরও ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইন অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক ও আইইইএফএ-র প্রতিনিধি শফিকুল আলম জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের সার্বিক ঘাটতি ১ হাজার এমএমসিএফের বেশি। তাই নতুন আবিষ্কৃত গ্যাস যাতে গ্রিড সংযোগের অভাবে অলস বসে না থাকে, সেদিকে দ্রুত নজর দিতে হবে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ। এর মধ্যে ১,৬০০ এমএমসিএফ আসছে দেশীয় কূপ থেকে এবং বাকি ৯০০ থেকে ১,০০০ এমএমসিএফ এলএনজি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে। সরকারের এই নতুন কূপ খনন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর নিজস্ব দৈনিক সরবরাহ ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে ইতোমধ্যে ৭০০ এমএমসিএফে উন্নীত হয়েছে।

পাশাপাশি, সাগরে গভীর অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান (‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’) উন্মুক্ত করার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।