৪২

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি ও ৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে উচ্ছেদের ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে সংসদ ভেঙে দিয়ে ভোট আয়োজনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পেড্রো সানচেজের।

মাদ্রিদ: তীব্র গণবিক্ষোভ ও পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত জরুরি বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর আগামী ২৯শে নভেম্বর ২০২৬ দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী মাদ্রিদের মনক্লোয়া প্যালেসে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার কথা জানান। নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী এই নির্বাচন ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, “সংসদে সৃষ্টি হওয়া অচলাবস্থা কাটিয়ে দেশের জনগণই ঠিক করবে স্পেনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে।”

দেশটিতে অনিয়ন্ত্রিত বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি ও ভাড়াটেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত সপ্তাহজুড়ে টানা আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো স্পেন। শনিবার মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ভ্যালেন্সিয়াসহ দেশের প্রায় ৫০টিরও বেশি শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনকারীরা বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়াটেদের আইনি সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি তোলে।

সম্প্রতি মাদ্রিদে মারিকারমেন আবাসকাল নামে ৮৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীকে তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। আইনি লড়াই শেষে আদালত বাড়িওয়ালার পক্ষে রায় দিয়ে বাড়ি ভাড়া ৫০০ ইউরো থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ৬৫০ ইউরো নির্ধারণ করে। যা পরে কিছুটা কমিয়ে এক হাজার ৬৫০ ইউরো করা হলেও ওই বৃদ্ধার মাসিক পেনশনের চেয়ে ৩০০ ইউরো বেশি ছিল। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো স্পেনের সাধারণ মানুষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের বামপন্থী সরকার পার্লামেন্টে দুটি জরুরি অধ্যাদেশ পাসের চেষ্টা করেছিল। এতে দুর্বল ও নাজুক পরিস্থিতিতে থাকা ভাড়াটেদের ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ না করা, পর্যটনকেন্দ্রিক অ্যাপার্টমেন্টে অতিরিক্ত কর ধার্য করা এবং ভাড়া চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে রক্ষণশীল পপুলার পার্টি (পিপি), উগ্র ডানপন্থী ভক্স এবং ক্যাটালান দলগুলোর বিরোধিতায় অধ্যাদেশ দুটি বাতিল হয়ে যায়।

সংসদে আইন পাস করাতে ব্যর্থ হওয়া এবং রাজপথে জনগণের তীব্র অসন্তোষের মুখে শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি নিলেন পেড্রো সানচেজ।