২৫

‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৪’ (বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন বাস্তবায়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ঢাকা, ৫ অক্টোবর ২০২৬: সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক সেবা ও সুবিধাসংবলিত নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সকালে নগরীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেমে’ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি বাড়ি বা মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করা নয়; বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং পর্যাপ্ত নাগরিক সেবা ও সুযোগ-সুবিধাসংবলিত মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।”

‘সর্বজনীন আবাসন, টেকসই নগরায়ণ’ শীর্ষক এ বছরের মূল প্রতিপাদ্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগর ও শহরের ওপর প্রতিনিয়ত জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ বসবাস করায় নগর জীবনে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার পরিকল্পিত, বিকেন্দ্রীভূত ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি জানান, সরকার প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলার জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুতের কাজ করছে। পাশাপাশি ঢাকা ও প্রধান শহরগুলোর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে সংযোগ সড়ক ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার আশপাশে গৌণ বা সেকেন্ডারি শহর গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বল্প ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। ইতোমধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা ও পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্কের জায়গা রেখে ব্লকভিত্তিক আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আবাসনের ঘাটতি পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মনজুর এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন এবং স্মারক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন। দিবসটি উপলক্ষে মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।