৩৬

ফ্রান্সের কোচ হয়ে প্রথম ঘরের মাঠে ডাগআউটে নামেন জিনেদিন জিদান; মাইকেল অলিসের দৃষ্টিনন্দন গোলেও ইতালির সঙ্গে ১-১ সমতায় শেষ হলো উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর লড়াই।

স্পোর্টস ডেস্ক

ঢাকা: খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের মহাকাব্যিক স্মৃতিকাতর স্টাড দ্য ফ্রান্সেই কোচ হিসেবে জন্মভূমির সমর্থকদের সামনে অভিষেক হলো জিনেদিন জিদানের। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ইতালির মুখোমুখি হয়ে জয়ের হাসি হাসা হলো না তাঁর। মাইকেল অলিসের বিশ্বমানের গোলের পরও ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফরাসিদের।

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখে ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো সাবেক প্রতিপক্ষ ইতালির মুখোমুখি হন ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ। ম্যাচে গ্যালারিতে “জিজু, জিজু” ও “স্বাগতম প্রিয় ঘরে” সংবলিত পোস্টারে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা পান তিনি। ম্যাচ শেষে জিদান বলেন, “সমর্থকদের এমন উন্মাদনা স্পর্শ করে গেছে। গোটা দেশকে একটি জয় উপহার দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে এমনই হয়। তবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত।”

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেটের মতো এক শটে ইতালির পোস্টের বারের ভেতরের কোণ ঘেঁষে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন মাইকেল অলিস। ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার কাছে যা ছিল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন।

তবে গোল হজমের ১৩ মিনিটের মাথায় ফরাসি মিডফিল্ডার লুকাস দা কুনহার এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেন ইতালির ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। বল কেড়ে নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত চিপে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান তিনি।

এরপর ম্যাচের বাকি সময়জুড়ে দেখা মেলে দোন্নারুম্মার দেয়াল। আদ্রিয়েন রাবিওতের শট ও শেষদিকে বদলি খেলোয়াড় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার বুলেট গতির গোলমুখী শট দুর্দান্তভাবে আটকে দেন তিনি। তার ওপর ম্যাচের শেষভাগে দ্বিতীয় বার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফরাসি ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানো।

সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ম্যানেজার রবার্তো মানচিনির দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা ব্যর্থতায় থাকা ইতালির জন্য এই ১-১ ড্র বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। অন্যদিকে পয়েন্ট হারালেও ৩ ম্যাচ শেষে নেশনস লিগের নিজ গ্রুপে এখনও শীর্ষেই অবস্থান করছে জিদানের ফ্রান্স। আগামী সোমবার বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।