৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের সালানপুর এলাকার বনজেমারি ওপেন কাস্ট প্রজেক্টে (ওসিপি) কয়লা উত্তোলনের জন্য বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় ছিটকে আসা পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন এক নারী। বিস্ফোরণে পাথরটি একটি বাড়ির ছাদ ভেঙে ঘরের ভেতরে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা সঙ্গীতা দেবীর মাথায় আঘাত লাগে। পরে তাঁকে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, খনিতে ভারী বিস্ফোরণের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আশপাশের বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিচ্ছে। বারবার আপত্তি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনজেমারি ওসিপিতে বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা একটি বড় পাথর নিউ কলোনির বাসিন্দা ত্যাগী পাশওয়ানের বাড়ির ছাদ ভেদ করে ঘরের ভেতরে আছড়ে পড়ে। তখন ঘরে থাকা সঙ্গীতা দেবীর মাথায় পাথরটি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর ৩টার দিকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ওসিপির কয়লা উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে আহত নারীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নেওয়া, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনা এবং জনবসতিসংলগ্ন এলাকায় ভারী বিস্ফোরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।

প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওসিপির এজেন্টের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন গ্রামবাসীরা। কর্তৃপক্ষ আপাতত সাধারণ বিস্ফোরণ বন্ধ রাখার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সাময়িক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, জনবসতির পাশে বিস্ফোরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তা সম্ভব না হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুরো গ্রামকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।

খনির উৎপাদন কার্যক্রমের কারণে আশপাশের জনবসতির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নতুন করে সামনে এনেছে এ ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক আশ্বাস নয়, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।