১৬

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে বাড়তি বেতন হাতে পাওয়ার কথা শ্রমিকদের।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী।

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সভা শেষে চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, বোর্ডের পরবর্তী সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষ পৃথকভাবে নিজেদের মজুরি প্রস্তাব জমা দেবে। নিরপেক্ষ সদস্যও একটি প্রস্তাব দেবেন। এরপর প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

গত রোববার শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। একই দিনে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ আশফাকুর রহমান। বুধবার সকালে আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়। একই আদেশে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে আগের চেয়ারম্যানকে বদলির কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

পোশাকশ্রমিকদের চলমান মজুরি আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বৈঠকের পর তিনি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সেখানে দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা আয়োজন এবং মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা হয়।

নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের সময়সূচি জানানো হলেও শ্রমিকদের বেতন কত বাড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। পরবর্তী বোর্ড সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাব জমা পড়ার পর এ বিষয়ে আলোচনা হবে।