১৯

ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার ভাড়া কিলোমিটার অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ভাড়ার হার ঠিক করবে ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন। ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলের বিধিমালা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া নির্ধারণ করবেন। ভাড়া যৌক্তিক রাখার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

নতুন বিধিমালা প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর সেসব এলাকার জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর এর আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ই-রিকশা নিবন্ধনে এখন আর আইনগত বাধা নেই।

বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নে দিতে হবে ৪ হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।

প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদে থাকবে কিউআর কোড। সিটি করপোরেশন থেকে এ সনদ নিতে ফি দিতে হবে ১ হাজার টাকা। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এসব ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৫ থেকে ৩০ বছর ধরে ই-রিকশার কার্যক্রমে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছিল না। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে যানবাহনগুলোকে নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশার নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে।