১৪৩

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক জলাভূমি আড়িয়াল বিলের দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা পাঁচ প্রজাতির মাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কই মাছে এবং সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে পুঁটি মাছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, মাছেদের অন্ত্র বা ফুলকাতেই নয়, মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশিতেও এসব অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোন মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক কেমন?

গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক কণা মিলেছে কই মাছে। এর পর্যায়ক্রমিক অবস্থানগুলো হলো:

  • কই: সর্বাধিক মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা
  • বাটা, মেনি (ভেদা) ও গুলশা টেংরা: তুলনামূলক বেশি
  • পুঁটি: মাংসপেশিতে সবচেয়ে কম (গড়ে ০.৫০ থেকে ০.৫১টি কণা)

কই মাছে কেন বেশি?

গবেষকদের মতে, কই মাছ সর্বভুক স্বভাবের হওয়ায় পানির তলদেশের পলি ও খাদ্যের সঙ্গে প্লাস্টিক কণা সহজে গ্রহণ করে। এই অতি ক্ষুদ্র কণা মাছের পরিপাকতন্ত্র পেরিয়ে মাংসপেশিতেও ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষণার পদ্ধতি ও এলাকা

২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর এলাকা থেকে পানি, পলিমাটি এবং মোট ১৫০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলোর অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশি পৃথকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন গবেষকরা।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ করণীয়

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান জানান, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার ফলে তাৎক্ষণিক কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না দেখা গেলেও ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে উৎস থেকেই প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধের আহ্বান জানান তিনি।

গবেষকদের প্রধান সুপারিশসমূহ:

  • নদী, খাল ও বিলে বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা জোরদার করা।
  • প্লাস্টিকের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা।
  • একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল-ইউজ) প্লাস্টিকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।