২২০

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

ইরানের হুমকি ও হামলার আশঙ্কায় প্রণালির উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহন হয়। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।

জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ পরিস্থিতি নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পার করানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক দিক থেকেই ইরানের অবস্থান এখনো শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ইরানের অপ্রচলিত সামরিক কৌশল—যেমন সস্তা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামুদ্রিক মাইনের ব্যবহার—এ ধরনের সংকীর্ণ জলপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত; প্রণালির আশপাশে দীর্ঘ উপকূল ও অনুকূল ভূপ্রকৃতি তাদের নজরদারি ও আক্রমণের সুবিধা দেয়। তৃতীয়ত, সংকীর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলের সীমিত জায়গা থাকায় এটি একটি ‘চোকপয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিকল্প রুট না থাকায় ঝুঁকি বেশি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জটিল হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ইরানের উপকূলীয় বিস্তৃতি ও বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি—পাহাড়, উপত্যকা ও দ্বীপ—তাদের অস্ত্র ও সামরিক অবস্থান লুকিয়ে রাখা এবং আকস্মিক আক্রমণ পরিচালনায় সহায়ক। ফলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যৌথভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।