১৯

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর মারা গেছেন তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।

দে মিগেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাঁর ক্লাব সিডি তেনেরিফ। এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, এই শোক কাটিয়ে ওঠার মতো কোনো ভাষা নেই। তাঁর পরিবার, স্বজন ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটে হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে তেনেরিফ ও এফসি আন্দোরার ম্যাচের শেষ দিকে। তখন দুই দলের স্কোর ছিল ২-২। বল ক্লিয়ার করতে গোলপোস্ট ছেড়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো। এ সময় মাঠের মাঝামাঝি এলাকায় দে মিগেলের সঙ্গে তাঁর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার পর ওওনোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত দে মিগেলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

দে মিগেলের মৃত্যুতে স্পেনের ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বার্সেলোনার সাবেক ডিফেন্ডার ও আন্দোরার সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার জেরার্ড পিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন ক্লাব এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনও শোক জানিয়েছে।

শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে মঙ্গলবারের কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনা টুর্নামেন্টের ম্যাচ স্থগিত করেছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। রিয়াল মাদ্রিদও অনুশীলন শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছে। লা লিগার ক্লাব এস্পানিওল তাদের নতুন কোচ এদের সারাবিয়ার পরিচিতি অনুষ্ঠান এক দিন পিছিয়ে বুধবার নির্ধারণ করেছে।

দে মিগেল ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে কাস্তেয়ন থেকে তেনেরিফে যোগ দেন। দলটির দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এর আগে মাদ্রিদের উপকণ্ঠে লেগানেসের যুব দলে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন এই স্ট্রাইকার। পরে ইউনিয়নিস্তাস দে সালামানকা ও কাস্তেয়নসহ বিভিন্ন দলে খেলেছেন।