যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন আব্দুল আল-সায়েদ। ‘হাবিবি প্যাক’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) গঠন করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই কমিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচার কমিটির অংশ নয়। বরং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিতে ভবিষ্যতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে চান আল-সায়েদ।

নির্বাচনে জয়ের পর দেওয়া ভাষণেও ‘হাবিবি’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন তিনি। আরবি এই শব্দের অর্থ ‘আমার প্রিয়জন’। তবে কথ্য ভাষায় এটি স্নেহ বা বন্ধুত্ব প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর সমর্থকদের অনেককে ‘হাবিবি ফর আব্দুল’ লেখা টি-শার্ট পরতেও দেখা গেছে।

জয়ের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে আল-সায়েদ বলেন, ‘জেডি, হাবিবি’। তাঁকে কঠোর সমালোচনা করা ভ্যান্সকেই আগামী জানুয়ারিতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সিনেটর হিসেবে শপথ পড়াতে হবে—এ বিষয়টিকে তিনি ‘মজার পরিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন আল-সায়েদ। নিজের মুসলিম পরিচয় প্রকাশ্যে তুলে ধরার পাশাপাশি ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধিতা করেন তিনি। প্রচারের সময় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নানা আক্রমণের মুখে পড়লেও নিজের বিশ্বাস ও মানুষের সেবার অঙ্গীকার তুলে ধরে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন।

নির্বাচনী প্রচারে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও আক্রমণ চালিয়েছিলেন রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর নাম ভুল উচ্চারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সও আল-সায়েদের সঙ্গে চরমপন্থী সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেন। তবে এসব সংগঠনের সঙ্গে আল-সায়েদের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই।

নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণের জবাবে ‘হাবিবি’ শব্দটি ব্যবহার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন আল-সায়েদ। এবার একই শব্দকে রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগের নাম হিসেবে ব্যবহার করলেন তিনি।

মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনীতিতেও আল-সায়েদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।