আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি বিবেচনায় ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খুলনা অঞ্চলের শিল্পায়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে।

খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একসময় শিল্পসমৃদ্ধ খুলনাকে আবারও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শ্রমিক আন্দোলন ও শিল্পকারখানায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কারখানা, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ভাঙচুরের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত শ্রমিক কখনো নিজের কর্মসংস্থানের উৎস ধ্বংস করতে পারেন না। শিল্পকারখানা শুধু দেশের সম্পদ নয়, শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।