যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধাক্কার পরও আত্মবিশ্বাস হারাননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিজের ওপর না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ব্যালটে তাঁর নাম থাকলে বিপুল ভোটে জয়ী হতেন তিনি। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না। থাকলে তিনি বড় ব্যবধানে জয় পেতেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, নির্বাচনের ফলাফল থেকে নিজের অবস্থানকে আলাদা করে দেখাতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দলীয় পরাজয়ের পরও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অটুট থাকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পিছিয়ে পড়ার পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি আগ্রহী। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি মেনে নেওয়ার কথাও জানান।
তবে সহযোগিতার বার্তার পাশাপাশি নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার কথাও সামনে এনেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট সম্মতি না দিলে সেটিতে ভেটো দিতে পারেন। পরে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে কংগ্রেস চাইলে সেই ভেটো অতিক্রম করে বিলটি আইনে পরিণত করতে পারে।
নির্বাচনের আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ভেটো ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। তখন তিনি বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাঁকে ‘মিস্টার ভেটো’ বলা হলেও আপত্তি নেই। নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভেটো’ লেখা একটি লাল টুপির ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। চূড়ান্ত ফলাফলে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রশাসনের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য তলবের সুযোগও তৈরি হবে।
এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ গেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপন এবং প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়; এ জন্য সংবিধান নির্ধারিত পৃথক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হলে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ফলে মেয়াদের বাকি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আইন পাস, বাজেট এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।