ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে চালু থাকা দুটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২ নম্বরের বড়বাগ এলাকায় সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা দুটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় শ্রমিকেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। বাইরে আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার পর শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপরও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ জানান, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে একদল বিক্ষোভকারী কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ভবনের সামনের অংশের কাচ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারখানার শ্রমিকেরা নিচে নেমে এলে হামলাকারীরা পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের দিকে চলে যান বলে জানান তিনি।
দেশওয়ান অ্যাপারেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পণ্য রপ্তানির চালান পাঠানো এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় কারখানায় উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। হামলাকারীদের তিনি কারখানার শ্রমিক নন বলে দাবি করেন। হামলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও কাজ শুরু করা হয় বলে জানান তিনি।
পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডে হামলায় কারখানার অভ্যর্থনা কক্ষের সিসিটিভি মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কাচ এবং শ্রমিকদের ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের চতুর্থ তলাতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কাচের আঘাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর হাত কেটে যায়।
কারখানাটির নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল কারখানায় হামলা চালায়। প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামও জানান, বাইরে থেকে আসা শতাধিক ব্যক্তি ভাঙচুরে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের গলায় পরিচয়পত্র দেখা গেলেও কারখানার নিজস্ব শ্রমিকেরা হামলায় অংশ নেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের প্রধান ফটকে সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নোটিশ টাঙানো হয়।
এদিকে দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর কিংবা কারখানায় হামলার কোনো কারণ দেখছে না পুলিশ।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কারখানা চালু রাখা ও বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। তবে মিরপুরের কারখানা দুটিতে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।