কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে নিজেদের সুপারকম্পিউটার অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করছেন ইলন মাস্ক। তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তত্ত্বাবধানে মেমফিসে নির্মাণাধীন ‘কলোসাস ২’ প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন দুটি স্থাপনা। চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যেই এগুলো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, নতুন স্থাপনা দুটির নাম রাখা হয়েছে ‘স্প্যাম’ ও ‘গান রেঞ্জ’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গান রেঞ্জ’ স্থাপনাটি নভেম্বরের শেষ নাগাদ এবং ‘স্প্যাম’ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে। মধ্যরাতে ও পরদিন সকালে পুরো প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের কথাও জানান তিনি। নির্মাণকাজে স্পেসএক্সের দল ও ঠিকাদাররা ভালো অগ্রগতি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন মাস্ক।

জানা গেছে, ‘স্প্যাম’ নামে পরিচিত স্থাপনাটি আগে হরমেল ব্র্যান্ডের পণ্য সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত হতো। আর ‘গান রেঞ্জ’ স্থাপনাটি একসময় স্থানীয় পুলিশ বিভাগের মালিকানায় ছিল।

এআইভিত্তিক প্রযুক্তি পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা পূরণে ২০২৪ সালে মেমফিসে ‘কলোসাস’ নামে সুপারকম্পিউটার নির্মাণ শুরু করেন মাস্ক। পরে তাঁর এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের অধীনে প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করে ‘কলোসাস ২’ গড়ে তোলা হয়। এক্সএআই অধিগ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটি এখন স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্ত।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিরোধিতা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থাপনার আশপাশের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জনশুনানিতে অংশ নিয়েছেন, বিক্ষোভ করেছেন এবং প্রকল্পের বিরোধিতায় পিটিশনও করেছেন।

গত এপ্রিলে কলোসাস ২ প্রকল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহে অনুমোদনহীন মিথেন গ্যাস টারবাইন ব্যবহারের অভিযোগে এক্সএআই ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমজেডএক্স টেকের বিরুদ্ধে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি। অভিযোগে বলা হয়, মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সাউথহ্যাভেনে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এসব টারবাইন পরিচালনা করা হচ্ছে। এলাকাটি মেমফিসের কাছাকাছি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত মামলাটি খারিজের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে কলোসাস ২ প্রকল্প ঘিরে পরিবেশগত ও আইনি বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণও দ্রুত বাড়ছে। তবে এসব স্থাপনা পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎব্যবস্থা, পরিবেশ এবং জনজীবনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।