ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং এক নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন।
রোববার (১ নভেম্বর) শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
আদেশের পর আখতারুজ্জামানের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ধারাগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলো জামিনযোগ্য। আসামির বয়স, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।
গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে তাঁকে হুমকিমূলক কথা বলতে দেখা যায়।
যে ঘটনায় মামলা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে মদিনা থেকে ৩৪ জন জামায়াত প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। ওই সময় বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারীর বিরুদ্ধে লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে।
পরে লাগেজ ও জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁকে মারধরের হুমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ না করার অনুরোধ জানালে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও দুর্ব্যবহার এবং যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক পরিচয়
আখতারুজ্জামান রঞ্জন কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কটিয়াদী আসনে জয়ী হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এই সাবেক সংসদ সদস্য।
মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন। হাইকোর্টের জামিন আদেশের অর্থ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়।