বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। দীপের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিলের পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসার খবর পায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটন, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, প্রয়োজনীয় আলামত এবং তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান শনাক্তের বিষয়টিও আবেদনে তুলে ধরা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে ওই মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, তাহসিফের মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। দীপের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন; আদালতের রিমান্ড আদেশ তাঁর অপরাধ প্রমাণ করে না।