ফ্ল্যাটে ঢুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ; প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা দায় স্বীকার করলেও বিষয়টিকে পরিকল্পিত বলছেন নিহতের মেয়ে।

ঢাকা (দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ): ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডালিয়া আক্তার সুমা (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের মেয়ে লিজা আক্তারের দাবি, এটি নিছক কোনো চুরির ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো পরিকল্পনা ও মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ রয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ: গত শুক্রবার (২৩শে অক্টোবর ২০২৬) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তার সুমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে: পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন— আশিক (২৩), আলমগীর হোসেন (৩৬) এবং অনিক (১৯)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সবাই নেশাগ্রস্ত এবং সুমার পূর্বপরিচিত। অনিক পেশায় দর্জি হলেও বর্তমানে বেকার এবং নিহত সুমার ভবনের পাশেই তার দোকান ছিল। এছাড়া আশিক ও আলমগীরও বেকার।

পুলিশের তদন্ত ও ভাষ্য:

  • পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
  • পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গৃহকর্মীর প্রবেশের সুযোগে সকালের দিকে তারা পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে সুমার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে সুমা জেগে উঠে তাদের চিনে ফেললে ও চিৎকার করলে তাকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
  • হত্যার পর পালানোর সময় অনিক বোরকা পরিহিত অবস্থায় পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশ থেকে বোরকার অংশবিশেষ ও জুতা উদ্ধার করে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ: নিহতের মেয়ে লিজা আক্তার দাবি করেছেন, ঘর থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস বা কিছু খোয়া না যাওয়ায় চুরির বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাঁর ধারণা, অন্য কেউ গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহার করে তাঁর মাকে এই পরিকল্পিত হত্যা করিয়েছে। আসামিদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলেই আসল মাস্টারমাইন্ডের সন্ধান মিলবে বলে তিনি মনে করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।