গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা দূর করতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত; আগামীকাল ২৫শে অক্টোবর এনসিসি সভায় মিলবে চূড়ান্ত অনুমোদন।
ঢাকা: দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে এনে আরও বেশি আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুটি শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ভিন্নমাত্রার নতুন চারটি পাঠ্যবই।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বইগুলো প্রণয়ন করেছে। আগামীকাল রবিবার (২৫শে অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।
নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার বইয়ের বিবরণ:
১. খেলাধুলা (চতুর্থ শ্রেণি): ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো এই বইটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের শৈশব থেকেই সুস্থ জীবনধারা ও ক্রীড়াচর্চায় আগ্রহী করে তোলা। ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ও দাবার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ও আত্মরক্ষার জন্য কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রয়েছে খেলার মাঠে কেটে যাওয়া, মচকানো বা হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসার ছবিসহ নির্দেশনা।
২. বাংলাদেশের সংস্কৃতি (চতুর্থ শ্রেণি): দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ঘটাতে ১১টি অধ্যায়ে প্রণীত হয়েছে এটি। ভাষা, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতির চিত্রসহ এতে ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ির’ ইতিহাস ও দুর্লভ ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
৩. লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (ষষ্ঠ শ্রেণি): এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাওয়া সম্পূর্ণ নতুন একটি শিখনদর্শন। ৬টি অধ্যায়ে সাজানো এই বইটির মূল লক্ষ্য পরীক্ষাভীতি দূর করে আনন্দময় অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহপাঠক্রমিক নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন করা।
৪. আমার কারিগরি শিক্ষা (ষষ্ঠ শ্রেণি): একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতে-কলমে শেখার অভ্যাস তৈরিতে ৮টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে এই বই। তত্ত্বভিত্তিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে ‘আমি কী করতে পারি’—সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করা ও সবুজ প্রযুক্তি এবং টেকসই জীবনের বিভিন্ন টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধানের মৌলিক শিক্ষা দেবে এটি।
পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক তথ্য: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং এনসিটিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রূপকল্প ও দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ই ডিসেম্বরের মধ্যে এনসিটিবি প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি বই মুদ্রণের কাজ শেষ করবে।
প্রাথমিকভাবে আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে শুরু হলেও পরবর্তীতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বই দুটি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই দুটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।