ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে গণবিক্ষোভ; ক্ষুব্ধ তরুণরা রাজপথে নামায় কোনো কোনো দেশে সহিংসতা ও আগাম নির্বাচনের হাওয়া।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা, শিক্ষক সংকট, আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাবকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা ইউরোপ। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়ায় রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। বিভিন্ন দেশে দাবি আদায়ের এ সংগ্রাম রূপ নিয়েছে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে।
আজ সোমবার (১৯শে অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে ইউরোপের এই চলমান গণবিক্ষোভের সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে।
বিভিন্ন দেশের প্রধান অসন্তোষ ও চিত্র:
- ফ্রান্স: সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দীর্ঘ ক্লাসের সময়, শিক্ষকের ঘাটতি, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল পদ্ধতির প্রতিবাদে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়ে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। আন্দোলন দমনে পুলিশের শক্ত অবস্থানের পাশাপাশি ফরাসি শ্রমিক সংগঠন (সিজিটি) দ্রব্যমূল্য কমানো ও বেতন বাড়াতে তরুণদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
- স্পেন: বাড়িভাড়া ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এক বিনিয়োগ তহবিল কর্তৃক ভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোয় ৮৭ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এর সূত্রপাত ঘটায়। উদ্ভূত আবাসন সংকট নিরসনে জরুরি আইন পাসে ব্যর্থ হয়ে সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯শে নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন।
- পর্তুগাল: লিসবনে শত শত মানুষ আবাসন সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। সরকারি তথ্যমতে, গত এক দশকে (২০১৫-২০২৪) দেশটিতে বাড়ির দাম বেড়েছে ১২৪ শতাংশ, যা ইইউ (EU) গড়ের দ্বিগুণ।
- ইতালি ও আলবেনিয়া: ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয় এবং আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। অন্যদিকে, আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কাজের অভাব ও শিক্ষার নিম্নমান নিয়ে বিক্ষোভ গড়িয়েছে ষষ্ঠ দিনে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সমর্থিত একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পও সেখানে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব: ফ্রান্স সরকার শিক্ষক সংকট মেটাতে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিবন্ধনের ফি বাড়ানো বাতিল করেছে। তবে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, সরকার আর বাড়তি কোনো ছাড় দিতে আগ্রহী নয়।
সামগ্রিকভাবে দেশভেদে সমস্যা ভিন্ন হলেও ইউরোপের তরুণদের এই জাগরণে মৌলিক চাহিদা—যেমন সাশ্রয়ী আবাসন, উন্নত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সস্তা জীবনযাত্রার দাবিই এখন প্রধানতম হয়ে উঠেছে।