আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা; আব্দুল্লাহ ও মজিদ গ্রুপের ১৫ সদস্যের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ।
খুলনা: সুন্দরবনের জলদস্যুতা, চাঁদাবাজি এবং বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতার মুখে অবশেষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ বেছে নিয়েছে কুখ্যাত ‘আলিফ বাহিনী’। এই চক্রের ১৫ জন সক্রিয় জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
গতকাল শনিবার (১০ই অক্টোবর ২০২৬) এসআরবি-৬ খুলনার মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (৯ই অক্টোবর) এসআরবি-৬ এর কাছে এসে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারী ১৫ সদস্যের মধ্যে কুখ্যাত আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ জন এবং মজিদ গ্রুপের ৭ জন জলদস্যু রয়েছেন।
এসআরবি-৬ এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুন্দরবনকে পুরোপুরি জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে জোরালো গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অনমনীয় অবস্থান এবং অপরাধমূলক জীবনের চরম অনিশ্চয়তার কারণে দস্যু বাহিনীর সদস্যরা নিজেরাই অপরাধের পথ চিরতরে ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ সাধারণ বনজীবীদের অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সুন্দরবন অঞ্চলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন চক্র মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক পদক্ষেপে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
এসআরবি-৬ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ১৫ দস্যুর আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বনের ভেতরে ও আশপাশের নদনদীতে বনজীবীরা নিরাপদে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।