তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ১৬তম বৈঠক; পাটজাত পণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর তাগিদ ঢাকার।

অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্যিক বিভিন্ন জটিলতা ও সীমান্ত বাধা নিরসনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (JWG) ১৬তম বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার (৮ই অক্টোবর ২০২৬) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে।

বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি অবস্থান করছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বা শুল্ক বাধা, ভারতীয় সীমান্তে পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার, এবং স্থলবন্দর অবকাঠামো সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উত্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশী প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি মূলত বাণিজ্যিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও আলোচনার প্ল্যাটফর্ম। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টি প্রাধান্য পাবে, কারণ ভারত থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয়, তার বিপরীতে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানির হার তুলনামূলকভাবে বেশ কম। তবে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) এই বৈঠকের এজেন্ডায় নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে মাত্র ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার বিপরীতে ভারত থেকে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। চীনের পর ভারতই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস, যেখান থেকে দেশীয় শিল্পকারখানার মূল কাঁচামাল, তুলা, সুতা ও কাপড় আমদানি করা হয়ে থাকে।