সরকারি নির্ধারিত দাম ১,৮৩৭ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১,৯০০ থেকে ২,২০০ টাকায়; পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর খেলা।
যশোর (বিশেষ প্রতিনিধি): যশোর জেলা জুড়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য বৃদ্ধিপত্রকে উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হচ্ছে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার। শহরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে ১ হাজার ৮৩৭ টাকার নির্ধারিত সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে। সরকারি তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কৃত্রিম বাড়তি দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
উল্লেখ্য, চলতি অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু যশোরের বাজারগুলোতে সরকারি এই নির্ধারিত মূল্যের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
আজ বুধবার (৭ই অক্টোবর ২০২৬) যশোর শহরের ঘোপ বউবাজার, বেজপাড়া, উপশহর ও জেলরোডসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনা, সেনা, পেট্রোম্যাক্স, ওমেরা, সান, টোটাল ও ডেল্টাসহ অধিকাংশ ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কোম্পানির খালি সিলিন্ডার না থাকলে নতুন সিলিন্ডার বাবদ আরও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা এই চড়া দামের পেছনে ডিলার ও পাইকারি সরবরাহকারীদের দায়ী করছেন। তাঁদের দাবি, ডিলার পয়েন্ট থেকেই একেকটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮২০ থেকে ১ হাজার ৮৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়। তবে পালবাড়ি ও ঢাকা রোড এলাকার ডিলার ও ডিপো মালিকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা নির্ধারিত রেটের মধ্যেই ১,৭৭০ থেকে সর্বোচ্চ ১,৮০০ টাকায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন।
এদিকে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মূল্য তালিকা না রাখায় একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।