ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্সে সর্বোচ্চ ফি; হুন্ডি ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে দেশীয় ব্যাংকের শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউস চালুর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

ঢাকা: প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং কিংবা বৈধ চ্যানেলে দেশে অর্থ প্রেরণের খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। বিদেশি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ, নানা ধরণের ফি ও কর আরোপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর ওঠানামার কারণে এ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হতো ১.৭৮ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ১.৮২ শতাংশে। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে ০.০৪ শতাংশ।

হিসাব করে দেখা যায়, বর্তমানে বিদেশ থেকে ১ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের গড়ে ১৮.২০ ডলার খরচ গুনতে হচ্ছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১৭.৮০ ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছোট অঙ্কের অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের ওপর ফি-এর চাপ সবচেয়ে বেশি। ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ দিতে হচ্ছে ২.৯৪ শতাংশ (যা আগে ছিল ২.৮৩ শতাংশ)। তবে ৫০০ ডলারের বেশি পাঠানোর ক্ষেত্রে এই খরচের হার মাত্র ০.৫০ শতাংশ।

দেশভিত্তিক চিত্র: অধিকাংশ প্রবাসী অধ্যুষিত দেশ থেকেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে খরচ ২.৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৯২ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১.০৪ থেকে ১.১২ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১.১৮ থেকে ১.৪৬ শতাংশ, ইতালিতে ১.১৪ থেকে ১.২৭ শতাংশ, কাতারে ১.২২ থেকে ১.২৮ শতাংশ এবং ওমানে ১.৩৯ থেকে বেড়ে ১.৪০ শতাংশে ঠেকেছে।

তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে কিছু দেশে। কমার তালিকায় রয়েছে কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি কমে ০.৯৮ শতাংশে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কমে ১.১১ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে খরচ বাড়লে প্রবাসীদের মাঝে হুন্ডির মতো অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দ্রুত বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা এবং বিদেশে সরাসরি দেশীয় ব্যাংকের নিজস্ব শাখা বা এক্সচেঞ্জ হাউস চালুর উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ভেতরের ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগীদের হাতে টাকা পৌঁছানোর খরচ কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশের ভেতরের প্রসেসিং ফি কিছুটা কমেছে।