বিদায়ী ম্যাচে ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্টে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিদায়; স্মৃতির ঝাপি খুলে আবেগঘন বক্তব্য বিশ্বজয়ী অধিনায়কের।
বুয়েনস আইরেস: জাতীয় দলের আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে দীর্ঘ ২১ বছরের মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত ইতি টেনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই বিদায়ের দিনটিকে নিজের ক্যারিয়ারের “সবচেয়ে দুঃখের দিন” বলে অভিহিত করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই বিশ্বজয়ী মহাতারকা।
বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার (৭ই অক্টোবর ২০২৬) ভোরে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিরুদ্ধে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেন মেসি। বিদায়ী ম্যাচেও নিজের চিরাচরিত জাদুকরী পারফরম্যান্স বজায় রেখে ১টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ২টি গোল। ৩-০ গোলের বড় জয়ে মাঠ ছাড়ার পর পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
ম্যাচ শেষে গ্যালারির ৮৪ হাজার ভক্ত ও সতীর্থদের উদ্দেশে দেয়া আবেগপূর্ণ বক্তব্যে অশ্রুসজল চোখে মেসি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি রক্ষা করতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আমরা এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে যত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই যাই না কেন, আমি কখনো লড়াই থামাইনি, এই দল ছেড়ে যাইনি।”
জাতীয় দল থেকে বিদায় নেওয়ার কষ্ট প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আর কখনো জাতীয় দলে ফিরে না আসাটা আমার জন্য গভীর বেদনাদায়ক হবে। আমি কসম কেটে বলতে পারি, আমি আজীবন খেলে যেতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই একজন খেলোয়াড়ের জীবনে ঘটতে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা।”
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার আবেগঘন স্মৃতির কথা তুলে ধরে মেসি জানান, শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে গত বিশ্বকাপটি তাঁর উপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচটি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক শক্তির বড় পরীক্ষা নিয়েছিল। সবদিক বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার এটিই সঠিক সময় বলে মনে করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে গ্যালারির ভক্তদের উদ্দেশ্যে মেসি বলেন, “এখন আমি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষাদময় দিনে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছি। তবে এরপর থেকে আমিও আপনাদের মতো গ্যালারিতে বসে আমাদের দলের নতুন ছেলেদের সমর্থন জুগিয়ে যাব। আমরা চিরকাল এক থাকব।”