ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি ও নারী সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ; আগামী শনিবারে মহা-সমাবেশের হুঁশিয়ারি।
নয়াদিল্লি: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি ও মুম্বাইসহ একাধিক নগরীতে বিক্ষোভ উত্তাল রূপ ধারণ করেছে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘গান্ধী জয়ন্তী’ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে আন্দোলনকারী তরুণ ও নারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের চড়াও হওয়া এবং নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) ‘দ্বিতীয় যন্তর মন্তর’ বা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নাম দিয়ে পুনরায় দেশব্যাপী বৃহত্তর বিক্ষোভ ও মিছিলের নতুন ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর পর্যন্ত দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি কিছুটা স্তিমিত হলেও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত রয়েছে।
এর আগে রোববার সাধারণ মানুষ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও তরুণ শিক্ষার্থীরা ইন্ডিয়া গেট থেকে ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তর অভিমুখে ‘সিটিজেনস মার্চ’ বা নাগরিক মিছিলে অংশ নেন। তবে পুলিশি কড়াকড়ির কারণে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশকেই নির্দিষ্ট গন্তব্য যন্তর-মন্তরে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। দিল্লির উইন্ডসর রাউন্ডঅ্যাবাউটসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ ব্যারিকেড গড়ে তোলে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, যন্তর-মন্তর এলাকায় নারীদের সঙ্গে পুলিশ চরম দুর্ব্যবহার করেছে। একই সাথে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত কলেজগুলোতে চলমান নারী সুরক্ষার আন্দোলনের সাথে এই রাজনৈতিক আন্দোলন একীভূত হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভকারী তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। এ জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দায়ী করে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। শনিবার নারী সাংবাদিক ও মহিলা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ১০ই অক্টোবর রাজধানী দিল্লিতে ঐতিহাসিক আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর অঙ্গীকার করেছেন আয়োজকরা।