প্রবল শক্তি নিয়ে চীনের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানার পর টাইফুন ডলফিন এখন দেশটির মধ্যাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে চীনে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ডলফিনকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাইফুনটির প্রভাবে হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিয়েছে। শিয়াংইয়াংসহ কয়েকটি শহরের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়তে থাকায় ৩৫টি জলাধারের আশপাশের ৯ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চীনের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। পার্শ্ববর্তী হেনান প্রদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে রাজধানী বেইজিংয়েও ব্যাপক বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেইজিংয়ে শহরটির বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বৃষ্টি হতে পারে। ফলে রাজধানীজুড়ে বন্যা ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ডলফিনের প্রভাবে চীনের পূর্বাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবহন বিঘ্নিত হয়েছে। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল, সড়কে পানি জমে যাওয়া এবং স্থানীয় যোগাযোগে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, ডলফিন স্থলভাগের দিকে আরও অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর শক্তি কমতে পারে। তবে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা বহন করায় ঝড়টি দুর্বল হলেও মধ্য ও উত্তর চীনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হুবেই, হেনান ও আশপাশের অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বেশি রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং আবহাওয়া ও জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।