জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো শহরের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাণহানির এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।

ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার তৎপরতা

সরকারের প্রধান মুখপাত্র জানান, ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি কাগজ তৈরির কারখানা এবং একটি শপিংমলে এখনো অনেকে আটকে আছেন। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কাগজ কারখানাটি থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, শপিংমল থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে ৬ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ব্যাহত উদ্ধারকাজ, সংকটে হাজারো মানুষ

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে দেশটির আত্মরক্ষা বাহিনী (Self-Defense Forces) মোতায়েন করেছে জাপান সরকার। তবে অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত গরম এবং ঘনঘন আফটারশকের (ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন) কারণে উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। দুর্যোগকবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার আবাসিক ভবন। এছাড়া প্রায় ৮৪ হাজার বাড়িতে খাবার পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির কারণ

জাপান প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠোর ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামোর জন্য পরিচিত হলেও, এই অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। দেশটির ভূ-তত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, কুমামোতো ও এর আশেপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আবাসিক ভবনগুলো অনেক পুরোনো ও তুলনামূলক দুর্বল কাঠামোর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বেশি দেখা দিয়েছে।