ইরানে নতুন করে আরও কঠোর সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের জন্য আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিখ্যাত রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সমঝোতা ভঙ্গ ও হামলার হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করেছে। তিনি দাবি করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সময়োচিত সামরিক পদক্ষেপের কারণেই ইরান এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারেনি। তারা যদি তা করতে পারত, তবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব আজ চরম হুমকির মুখে পড়ত।”
কঠোর ভাষায় সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আজ রাতে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব। আগামীকালও একইভাবে হামলা হবে। তারা এর বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না। বড় বড় কথা বলা ছাড়া কার্যত তাদের আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই।”
এদিকে এই সাক্ষাৎকারের কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, হোয়াইট হাউসের নির্দেশে টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী।
নিশানায় দুর্ভেদ্য ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ সরাসরি হামলার ইঙ্গিত দেন। এটি দেশটির বিখ্যাত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের প্রায় এক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
পিকঅ্যাক্সকে হামলার বড় সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ওই স্থাপনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা এখন মোটেও ভালো নয়। যখনই আমরা কোনো তৎপরতার খবর পাই, তখনই তা ধ্বংস করে দিই। খুব শিগগিরই আমরা পিকঅ্যাক্সেও হামলা চালাতে পারি। আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করব; ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলুন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের গভীর ভূগর্ভে দুটি সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে, যা অত্যন্ত সুরক্ষিত। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের ধারণা, স্থাপনাগুলো এতটাই শক্তভাবে নির্মিত যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-ভেদী বোমার পক্ষেও এগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন হতে পারে।
আলোচনার টেবিল এখনো খোলা
সামরিক আক্রমণ ও কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দিলেও ট্রাম্প কূটনীতির পথ একেবারে বন্ধ করে দেননি। তিনি জানান, ইরান চাইলে এখনো আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ রয়েছে। তবে তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে বৈশ্বিক নিয়মকানুন মেনেই যেকোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চরম সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।