চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় বন্যার পানির পাশাপাশি এখন নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। চলমান বন্যায় জেলায় এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে অন্তত ৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২০ থেকে ২৫ জন বাসিন্দা।
গত রবিবার (১২ জুলাই) চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আশ্রয়কেন্দ্র ও বসতবাড়িতে সাপের হানা
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চারদিকের বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক বাসস্থান তলিয়ে যাওয়ায় এগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। বিশেষ করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ এবং বন্যাকবলিত মানুষের বসতবাড়িতে সাপের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যার ফলে সাপের কামড়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা ৭৫ জন সাপে কাটা রোগীকে শনাক্ত করেছি। আক্রান্তদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।” সাপে কাটার চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রতিষেধক বা ‘অ্যান্টিভ venom’ (অ্যান্টিভেনম) প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের এ বিষয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে পানিবাহিত রোগ, পানি নামলে আরও বাড়ার আশঙ্কা
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বন্যার নোংরা পানির সংস্পর্শে আসায় একই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ২০ থেকে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যদিও পানিবাহিত রোগের পরিস্থিতি এখনো চরম উদ্বেগজনক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে পৌঁছায়নি, তবে আসল চ্যালেঞ্জ আসবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে দূষিত পানি ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্যানিটেশন (শৌচাগার) সমস্যার কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস ও চর্মরোগের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কবার্তা
বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন সাধারণ মানুষকে বন্যার পানি ফুটিয়ে বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং ঘরবাড়ির আশেপাশে কার্বলিক অ্যাসিড বা ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে সাপের উপদ্রব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।