ডেস্ক রিপোর্ট:
আপনার জন্মসনদ বলছে বয়স ২৫, কিন্তু শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও কি সত্যিই ২৫ বছরের মতোই তরুণ? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের শরীর প্রকৃত বয়সের তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। আর এই ‘অকাল বার্ধক্য’ বা জৈবিক বয়স বৃদ্ধিই তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের Washington University School of Medicine-এর গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মানুষের জৈবিক বয়স ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত বয়স ও জৈবিক বয়সের ব্যবধান যত বেশি হবে, ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র ও অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকিও তত বাড়বে।
গবেষকরা বলছেন, দ্রুত জৈবিক বয়স বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থূলতা, অল্প বয়সে ওজন বৃদ্ধি, সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়া, কম বয়সে ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কোলন বা অন্ত্রের ক্যানসারের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণার আলোকে বিশেষজ্ঞরা তরুণদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি কমানো গেলে ক্যানসারের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব।