রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল সোমবার (২২ জুন) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন রাতে শেওড়াপাড়া এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন রাফি। এ সময় হঠাৎ তাঁকে লক্ষ্য করে একটি ইট ছোড়া হয়। চলন্ত অবস্থায় ইটের তীব্র আঘাতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সোমবার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলাটি এখন ‘হত্যা মামলায়’ রূপান্তর হচ্ছে

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর রাফির পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ইতোমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

কাফরুল থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী রাফি মারা গেছেন, তাই আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পূর্বের হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন সরাসরি ‘হত্যা মামলায়’ রূপান্তর করা হবে।

হঠাৎ কেন চলন্ত মোটরসাইকেলে এমন প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো, এর পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল কি না—সেই প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদসহ পুলিশের বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যুবকের এমন আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবার ও তাঁর বন্ধুদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।