বাগেরহাটের ফকিরহাটে মো. তালহা নামের সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সৎ মা রুবাইয়া আক্তারকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ফকিরহাট থানা পুলিশ।

এর আগে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লখপুর গ্রামে ‘এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর পেছনের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পানি ভর্তি বালতির মধ্যে মাথা নিচু ও উপুড় করা অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সামান্য পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিহত মো. তালহা (৬ বছর ৭ মাস) লখপুর গ্রামের সৈকত হোসেন পাপ্পু ও তার প্রথম স্ত্রী মনিরা খানমের ছেলে। তালহার বাবা পাপ্পু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে শিশুটি লখপুরের ওই ভাড়া বাড়িতে বাবা ও সৎ মা রুবাইয়া আক্তারের সাথেই থাকত। তার আপন মা মনিরা খানম অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা বসবাস করছেন।

শনিবার সকালে ঘরে তালহাকে বালতির পানিতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তালহার আপন মা মনিরা খানম। তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “ফোনে ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে ছুটে আসি। এসে শুনি আমার ছেলে নাকি বালতির পানিতে ডুবে মারা গেছে! কিন্তু যে বালতি থেকে ওকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে সামান্য পানি ছিল। আমার অত বড় ছেলে অতটুকু পানিতে নিজে নিজে ডুবে মারা যাওয়ার মতো অবুঝ না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক কলহের জেরে ওর সৎ মা রুবাইয়া ওকে জোরপূর্বক পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছে।”

পুলিশ হেফাজতে সৎ মা, তদন্ত চলছে

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও আপন মায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় সৎ মা রুবাইয়া আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, “আপাতদৃষ্টে বিষয়টিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং শিশুটির মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা জানতে সৎ মাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন (Autopsy Report) হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক ও প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামান্য বালতির পানিতে সাড়ে ছয় বছরের একটি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।