নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভেকু (স্কেভেটর) দিয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ওসমান গনি (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ওসমান গনি উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, এলাকায় ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সঙ্গে ওসমান গনির বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার রাতে সেই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক ওসমান গনির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
সড়কে আগুন ও বিক্ষোভ-ভাঙচুর
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ওসমান গনির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও শত শত দলীয় নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে আড়াইহাজার–গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং সেখানে অবস্থান নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। ফলে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, আটক কয়েকজন
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের একাধিক দল ও অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। দুপুরের দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “অবৈধভাবে মাটি কাটা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”