বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, “এই সরকার মূলত ‘হাওয়া ভবনের কিচেন কেবিনেট’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় মূল প্রভাব বিস্তার করছেন।”
গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির অঙ্গ সংগঠন ‘ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত ‘জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দায়িত্ব নেওয়ার দাবি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমান নেতৃত্বের কাছে ইতিবাচক কিছু প্রত্যাশা করে না। ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাজারে ‘মব’ সংস্কৃতির যেসব ঘটনা ঘটছে, সরকার তার কোনো সমাধান দিতে পারেনি। এমনকি সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এই সরকার যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ জানাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে দেশের আইনশৃঙ্খলার তদারকি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজের হাতে নেওয়া উচিত।
পাটের মতো চামড়া শিল্পকেও ধ্বংসের চক্রান্ত: সারওয়ার তুষার
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার চামড়া শিল্পের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে দেশের এই অন্যতম সম্ভাবনাময় খাতকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “খুলনা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে দেদারসে দেশের চামড়া বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং এর পেছনে ভারতপন্থি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সরাসরি জড়িত। একসময় দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে পরিচিত পাটশিল্পকে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, আজ এই চামড়া শিল্পকেও ঠিক একই পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
সংকট উত্তরণে ওলামা অ্যালায়েন্সের ৫ দফা দাবি
আলোচনা সভায় দেশের চামড়া শিল্পের তীব্র সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেট নির্মূল: কোরবানির চামড়াসহ সাধারণ সময়ে পশুর চামড়ার সর্বনিম্ন ন্যায্য মূল্য যুক্তিসংগত উপায়ে নির্ধারণ করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ: এলডব্লিউজি (LWG) সনদ অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে সরাসরি বাংলাদেশের চামড়া রপ্তানির পথ সুগম করা।
৩. প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু: সরকারি উদ্যোগে বিশেষ জোন তৈরি করে কোরবানি ও সাধারণ সময়ে চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কার্যকরী ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা।
৪. নতুন ট্যানারি স্থাপন: দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে একাধিক নতুন ও আধুনিক ট্যানারি স্থাপন করা।
৫. লেদার কলেজের আধুনিকায়ন: দেশের লেদার কলেজগুলোকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে দেশের চামড়া খাতের ধস ঠেকাতে কওমি মাদ্রাসার সম্পৃক্ততা ও চামড়া সংগ্রহে তৈরি হওয়া অনীহা দূর করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।