বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যহাতি তাড়াতে দেওয়া অবৈধ বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে জড়িয়ে রুবি আক্তার (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোররাতে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রুবি আক্তার ওই এলাকার আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী।
ঘটনার পর আইনি জটিলতা এড়াতে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে লাশ দাফনের চেষ্টা চালায় একটি প্রভাবশালী মহল। তবে পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় তা সম্ভব হয়নি।
অসাবধানতাই ডেকে আনল কাল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিনের মালিকানাধীন আম বাগান ও ধানক্ষেত বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে চারদিকে জিআই তার টেনে অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হয়েছিল। ভোররাতে গৃহস্থালির কাজে ওই জমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রুবি আক্তার। শক খাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
১০ বছরে ঝরেছে ২০টি প্রাণ
তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, লামা উপজেলায় বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। বিগত ১০ বছরে এই এক উপজেলাতেই অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে অন্তত ১৪টি বন্যহাতি এবং রুবি আক্তারসহ ৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই ধরণের অবৈধ ও মরণঘাতী ফাঁদ উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও বন বিভাগের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারসহ এই ঘটনায় লামা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির হোসেন বলেন,
“বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী হত্যা বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের আওতায় দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।”