যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের খবরে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন সেনারা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখার দুঃসাহস দেখায়, তবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।
ইরানের সমন্বিত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন সেনারা পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হবে এবং আগ্রাসন চালালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইরানি বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। জোলফাগারি ট্রাম্পকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী’ ও ‘অনির্ভরযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, স্থল অভিযান বা ইরানের কোনো দ্বীপ দখলের কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না। বরং এমন পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সেনাদের জন্য বন্দিত্ব বা প্রাণহানির ঝুঁকি থাকবে।
বর্তমানে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত (ইরাক সংলগ্ন) এবং দক্ষিণে হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইআরজিসির গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি খুজেস্তান প্রদেশ পরিদর্শনের সময় জানান, তাদের বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দিতে প্রস্তুত। ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল ইউনিট ও ড্রোন সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পেন্টাগন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানে স্থল অভিযানের বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করছে। যদি বিমান হামলা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে বিশেষ বাহিনী ব্যবহার করে কৌশলগত স্থাপনায় অভিযান চালানোর বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে সামরিক পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই চাপ বা অপমান মেনে নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।