কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের ছালিয়াকান্দি এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি। দলটির দাবি, একটি পারিবারিক বিরোধকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা মুজিবুল হক।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতকান্দি এলাকায় বাঙ্গারি ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মী বৈঠক করতে চাইলে তিনি এতে অসম্মতি জানান। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে পরবর্তীতে জামায়াত কর্মী আবু তাহের রুহুল আমিনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাকে হুমকি ও হামলার চেষ্টা করা হয়।
মোল্লা মুজিবুল হক আরও জানান, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নেয়ামতকান্দি বাজারে আবু তাহের ও তার সহযোগীরা পুনরায় রুহুল আমিনের পথরোধ করেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি জানতে পেরে তাহেরের বড় ভাই সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে এসে তাকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। অটোরিকশায় ওঠানোর সময় তাহেরের পিঠে হালকা আঁচড় লাগে, যা পরে রাজনৈতিক হামলা হিসেবে প্রচার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ভাইয়ে ভাইয়ের এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জামায়াতে ইসলামীর একটি পক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে হামলার সাজানো গল্প ছড়াচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে মিছিল, উত্তেজনা সৃষ্টি এবং অসুস্থতার নাটক করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অথচ কিছুক্ষণ পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাভাবিকভাবে হাসপাতাল ত্যাগ করতে দেখা যায়, যা পুরো ঘটনাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি এসব অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা মুরাদনগরে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিকে, রোববার রাতে জামায়াত কর্মী আবু তাহেরের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার ভাই সুমন মিয়া। তিনি জানান, তাহেরের শরীরের আঘাত কোনো মারধরের কারণে নয়, বরং গাড়িতে ওঠার সময় লেগেছে।