আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। আজ রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রচার করা হয়। খবর দিয়েছে বিবিসি ও সিএনএন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে খামেনির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি, মারা গেছেন।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। বিবিসি জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুতে আজ (১ মার্চ) থেকে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা পর্ষদের সচিব আলী শামখানি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা। একই হামলায় ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি পর্ষদ গঠনের কথা জানিয়েছে ইরনা। এই পর্ষদে থাকবেন দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় হামলায় নিহত হন খামেনি। তাঁর মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে কাউন্সিলটি।
এদিকে বিবিসি ভেরিফাই উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, তেহরানের লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটিই ছিল খামেনির কার্যালয়।
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, কার্যালয়ে অবস্থানরত অবস্থায় খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তাঁর ‘গোপনে লুকিয়ে থাকার’ খবর ছিল শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের অংশ।
এ ঘটনার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে কঠোর ও বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী অভিযান শিগগিরই অধিকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শুরু হবে।’
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৩৯ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর খামেনি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গঠনে ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।
দীর্ঘ ৩৭ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি ইরানের রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। তাঁর সময়ে ইরানের সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেন।
খামেনির শাহাদাতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: আহত ৪ বাংলাদেশি প্রবাসী