কারাকাসে মার্কিন অভিযানে ৫৭ নিহত, মাদুরো দম্পতিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হলোমাদুরোকে সরিয়ে নিতে মার্কিন অভিযানে ভয়াবহ প্রাণহানি, নিহত ৫৭ জন
নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মিছিল। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বাসভবনে গত শনিবার চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানে অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবরে বলা হয়, অভিযানের পর মাদুরো দম্পতিকে কারাকাস থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ২৩ জন সেনাসদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া কিউবার ৩২ জন যোদ্ধা এবং দুইজন বেসামরিক নারীও প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযানের সময় বাসভবন এলাকা কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নিকোলা মাদুরোকে আটক করার অভিযানে কিউবার বহু নাগরিক নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, মার্কিন অভিযানের সময় কিউবানরা মাদুরোকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। সেটি তাদের জন্য মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না।’
অভিযানের দুই দিন পর, গত সোমবার স্থানীয় সময় সকালে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের সঙ্গে মাদুরোর ছেলে এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ‘মাদকসন্ত্রাস’, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আজীবন কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে।
তবে নিকোলা মাদুরো তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি নিজেকে অপহরণের শিকার দাবি করে বলেন, তিনি একজন ‘ভালো মানুষ’ এবং এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট। মাদুরোর ভাষায়,
‘আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।’
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্ববাসীর নজরে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: আহত ৪ বাংলাদেশি প্রবাসী