মধ্যপ্রাচ্যে নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড়, প্রতিযোগিতায় সামিল বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও
রমজান উপলক্ষে ৫০ শতাংশের উপরে বিশেষ মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে আরব আমিরাতের রিটেইলার প্রতিষ্ঠানগুলো। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজান উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসাকে সেবার পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার যেমন বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে, তেমনি ক্রেতা আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ছোট-বড় বিপণিবিতানগুলো।
রমজান ঘিরে বিভিন্ন শপিংমল ও সুপারমার্কেটে বাহারি আলোকসজ্জার পাশাপাশি প্রচারপত্র ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে বেড়েছে কেনাকাটার আগ্রহ।
কুয়েত ও ওমান-এ নিত্যপণ্যে মূল্যছাড়ের হিড়িক পড়েছে। সুপারমার্কেট ও হাইপারমার্কেটগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ক্রেতাদের ভাষ্য, রমজান এলে নিয়মিতভাবেই এসব দেশে পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়। বিক্রেতারাও জানান, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এবং সেবার মনোভাব থেকে তারা পণ্যের দাম কমিয়ে থাকেন। পাশাপাশি পণ্যের মান বজায় রাখার বিষয়েও তারা সতর্ক।
বর্তমানে এই দুই দেশে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর বসবাস। তাদের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঞ্জাবি, তাসবিহ, টুপি, জায়নামাজ ও হিজাবের বিক্রি বেড়েছে। মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যে ছাড় পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
এদিকে কুয়েত সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বাজারে পণ্যের দাম ও মান নিয়মিত তদারকি করছে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ওমানে রমজান মাসে ব্যবসাকে সেবামুখী করতে বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার উপহার ঘোষণা করেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, দেশে উৎসবের সময় অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগ শোনা যায়। এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজানে মূল্যছাড়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশেও উৎসবকেন্দ্রিক মূল্যহ্রাসের ইতিবাচক প্রথা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: আহত ৪ বাংলাদেশি প্রবাসী